Tawhid

তাওহীদ সমস্ত ইবাদতের মূল – ভূমিকা

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত-তামিমি(রাহিমাহুল্লাহ)  মুদ্রলেখক: মনজুর আহ্‌মদ

মহান আল্লাহ্‌র বাণী-

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

অর্থ: “আর আমি জ্বিন ও মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি”।১ (সূরা আয্‌যারিয়াত: ৫৬)

টীকা ১।  আল্লাহ্‌র এ বাণীর মর্ম হল: আমি জ্বিন ও মানুষকে অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি: শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি। তা হচ্ছে, তারা আমার ইবাদত উপাসনা করবে এ আয়াত তাওহীদের বর্ণনা রয়েছে। এর যুক্তি হলো: আমাদের পূর্বসূরীগণ (إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ তারা কেবল আমার একত্ববাদে বিশ্বাস করবে। এ ব্যাখ্যার প্রমাণ হল: রাসূললগণ কেবল তাওহীদের ইবাদতের উদ্দেশ্যেই প্রেরিত হয়েছেন। ইবাদতের উৎপত্তিগত অর্থ হল: বিনয়-নম্রতা। এর সাথে ভালবাসা ও আনুগত্য যুক্ত হলে তা হবে শারয়ী ইবাদত। শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদতের অর্থ হলো: ভালোবাসা, আশা ও ভীতির সমন্বয়ে আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা। শায়খুল ইসলাম বলেছেন, ইবাদত এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক নাম যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আল্লাহ্‌র নিকট পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক সকল প্রকাশ্য ও প্রকাশ্য কথা ও কাজ। অতএব এ আয়াতের মর্ম হবে; সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্যই হওয়া ওয়াজিব; অন্য কারো জন্য নয়।

আল্লাহ তা’আলা বলেন-

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ

অর্থ: “আর আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে এই মর্মে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং ‘তাগুত’ থেকে দূরে থাক”।২ (সূরা আন্‌-নাহ্‌ল: ৩৬)

টীকা ২। এই আয়াতটি ইবাদত ও তাহীদের অর্থের ব্যাখ্যা করছে। আরো ব্যাখ্যা করছে রাসূলগণ তার দু’টি বাণীসহ প্রেরিত হয়েছেন। সেগুলি হচ্ছে; তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং ‘তাগুত’ থেকে দূরে থাক। এটিই হচ্ছে তাওহীদের মর্মার্থ। اعْبُدُوا اللَّهَ এ আয়াতাংশে রয়েছে তাওহীদের স্বীকৃতি। وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ শরিকের অস্বীকৃতি। الطَّاغُوتَ শব্দটি فعلوت এর ওজনে الطغيان থেকে উৎপন্ন। বান্দা তার উপাসনা ও আনুগত্যের সীমা অতিক্রম করে যারই ধর্ণা দেয় তাকেই ‘তাগুত’ বলা হয়।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন-

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا

অর্থ: “আর তোমার প্রভূ নির্দেশ দিয়েছেন তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং মাতা-পিতার সাথে ভাল ব্যবহার করবে”।৩ (সূরা আল-ইসরা: ২৩)

টীকা ৩।  وَقَضَىٰ رَبُّكَ এর অর্থ হলো আদেশ করা ও উপদেশ দেয়া।   أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ অর্থ: ইবাদত-বন্দেগীকে তাঁর মধ্যে সীমাবদ্ধ কর; অন্যের মধ্যে নয়। এটির নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে এটিই হচ্ছে (لا  اله الا الله) এর অর্থ। আয়াতে এটি স্পষ্ট যে, তাওহীদের অর্থ হল আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ইবাদতকে একীভূত করা অথবা (لا  اله الا الله) বাণীটি বাস্তবায়িত করা।

قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا

অর্থ: “বলুন, তোমরা এসো, তোমাদের প্রভু তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তা পড়ে শোনাই। (তা হচ্ছে) তোমরা কোন কিছুকে তাঁর সাথে অংশীদার করবে না”।৪ (সূরা আনআম: ১৫১-১৫৩)

টীকা ৪।  উহ্য বাক্যটি এরূপ: “বলুন, তোমরা এসো, তোমাদের প্রভূ তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তা পড়ে শোনাই। তিনি তোমাদের উপদেশ দিয়েছেন, তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে না। “অর্থাৎ নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে উপদেশ হল শরীয়তের দৃষ্টিতে, আর আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে শরীয়তী উপদেশ হল অপরিহার্য নির্দেশ। পূর্বের আয়াতসমূহের মতো এ আয়াতটিও তাওহীদের অর্থ বহন করে।

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا

অর্থ: “আর তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করো না”।৫ (সূরা আন্‌-নিসা: ৩৬)

টীকা ৫।  এ আয়াতে শিরকে আকবার, শিরকে আসগার ও শিরকে খাফী-সকল শিরকের নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া কোন ফেরেশ্‌তা, নবী নেক্‌কার, পাথর, গাছ জ্বিন প্রভৃতির সাথে আল্লাহ্‌র শরীক করার অনুমতি নেই। কারণ ওগুলি সবই ক্ষুদ্র বস্তু।

ইবনে মাসউদ (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সা:)-এর মোহরাঙ্কিত উপদেশ প্রত্যক্ষ করতে চায় সে যেন মহান আল্লাহ্‌র এ বাণী পাঠ করে:

قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ ۖ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا

অর্থ: “বলুন তোমরা এসো, তোমাদের প্রভু তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন তা পড়ে শোনাই। (সেটি হচ্ছে) তোমরা তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার কর না। আর এটি হচ্ছে আমার সরল পথ। অতএব, তোমরা এটি অনুসরণ কর; অন্য সকল পথের অনুসরণ কর না”।৬ (সূরা আন-‌’আম: ১৫৩)

টীকা ৬।  ইবনে মাসউদ (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা: ) এর মোহরাঙ্কিত উপদেশ প্রত্যক্ষ করতে চায় এর তাৎপর্য হল এই যে, যদি নেয়া যায় যে, তিনি কিছু উপদেশ দিয়েছেন, এ উপদেশ নামায় সীল মোহর লাগানো হয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পর সেটি খোলা হয়েছে, তাহলে তা হবে এসব আয়াত যাতে দশটি উপদেশ রয়েছে। ইবনে মাসউদ (রাযিআল্লাহু আনহু) এ বর্ণনাটি শিরকের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শুরু হওয়া এসকল আয়াতের উচ্চ মর্যাদা প্রমাণিত করছে। হাদীসে আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার যোগ্য দাবী, প্রথম ও সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দাবী।

মুয়ায বিন জাবাল (রায়িআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন:

“আমি একটি গাধার পিঠে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) পেছনে বসেছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে মুয়ায, বান্দার ওর আল্লাহর হক কি? এবং আল্লাহ্‌র ওপর বান্দার হক কি? তা কি তুমি জান? আমি বললাম, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার ওপর আল্লাহ্‌র হক হল এ যে, তাঁরা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে না।৭ আর আল্লাহ্‌র ওপর বান্দার হক হল এই যে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করে না তাকে শাস্তি না দেয়া। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি মানুষকে সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন, তাদের সুসংবাদ দিও না, নইলে তারা আমল বিমুখ হয়ে পড়বে”।৮ (সহীহ বুখারী ও সহীত মুসলিম)

টীকা ৭।  শায়খ বলেন, মুয়ায বিন জাবাল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি একটি গাধার পিঠে মহানবী (সা:)-এর পেছনে বসেছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, যে মুয়ায, তুমি কি জান বান্দার ওপর আল্লাহ্‌র কি হক এবং আল্লাহ্‌র ওপর বান্দার কি হক? তিনি বলেন, বান্দার ওপর আল্লাহ্‌র হক হচ্ছে তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না”। এ হকটি মহান আল্লাহ্‌র জন্য একটি ওয়াজিব হক। কারণ, কিতাব ও সুন্নত (মহানবীর অনুপম জীবনালেখ্য) বরং সকল রাসূলের আগমন ঘটেছে এ হকের দাবী ও বিবরণ নিয়ে এবং এ জানিয়ে দেয়ার জন্য যে, বান্দার ওপর সকল ওয়াজিবের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওয়াজিব হল এটি।

 

টীকা ৮।  এরপর মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্‌র ওপর বান্দার হক হল এই যে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করে না তাকে শাস্তি না দেয়া। “আল্লাহ্‌র ওপর বান্দার হক”-এমন একটি হক আলিমগণের ঐক্যমত্যে যেটি আল্লাহ্‌ নিজের জন্য নির্ধারণ করেন। হাদীসে কুদসীতে তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর যুলুম অবিচারকে হারাম করেছি”।

 

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:

১। জ্বিন ও মানুষের সৃষ্টি রহস্য।

২। ইবাদতই হচ্ছে তাওহীদ। কারণ, এর মধ্যেই রয়েছে বিরোধ।

৩। যে ব্যক্তি তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করল না সে ইবাদতই করল না। এতে নিহিত রয়েছে-

و لا أنتم عبدو ن ما أعبد

(আমি যার ইবাদত করি তোমরা তার ইবাদত কর না)-এর অর্থ।

৪। রাসূলগণকে প্রেরণ করার রহস্য।

৫। প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল প্রেরিত হয়েছেন।

৬। সকল নবীর দ্বীন- জীবন ব্যবস্থা এক।

৭। তাগুতকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত আল্লাহ্‌র ইবাদত সম্পন্ন হবে না। এতেই রয়েছে আল্লাহ্‌র বাণী-

فمن تكفر با لطغو ت وتؤ من با لله

(অত:পর যে তাগুতকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহ্‌র ওপর ঈমান আনল সে দৃঢ় বন্ধনকে আঁকড়ে ধরল।)

৮। আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে যারই ইবাদত করা হয় তাকেই তাগুত বলা হয়।

৯। সালাফে সালেহীনের নিকট সূরায়ে আন্‌’আমের তিনিটি সুস্পষ্ট আয়াতের উচ্চ মর্যাদা, যাতে রয়েছে দশটি বিষয়। প্রথমটি হল শিরকের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা।

১০। সূরায়ে ইসরার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ। এতে রয়েছে আঠারটি বিষয় যা আল্লাহ্‌ শুরু করেছেন-

(আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোন উপাস্য সাব্যস্ত কর না, নইলে তুমি নিন্দিত লাঞ্ছিত হয়ে বসে থাকবে।)- আর শেষ করেছেন-

(আর তুমি আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করো না, করলে তুমি নিন্দিত ও আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ হতে দূরীভূত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।) দিয়ে এ বিষয়গুলির উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সতর্ক করে আল্লাহ্‌ বলেছেন।

অর্থাৎ, “এটি এমন হিকমতের অন্তর্ভূক্ত যা আপনার প্রভু আপনার নিকট প্রত্যাদেশ করেছেন।

১১। সূরায়ে নিসার আয়াত থেকে ১০টি আয়াতকে অধিকারের আয়াত বলা হয়। আল্লাহ্‌ এটি শুরু করেছেন:

(আর তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন কর না।) আয়াত দিয়ে।

১২। আল্লাহ্‌র রাসূল (সা: ) ইন্তেকালের সময় যে উপদেশ দিয়েছিলেন সে ব্যাপারে সতর্ক করা্

১৩। আমাদের ওপর আল্লাহ্‌র হক সম্পর্কে অবহিত হওয়া।

১৪। বান্দা আল্লাহ্‌র হক আদায় করলে সে কি হক বা অধিখার লাভ করবে তা জানা।

১৫। অধিকাংশ সাহাবীই এ বিষয়টি জানতেন না।

১৬। কল্যাণের স্বার্থে এলম গোপন রাখার বৈধতা।

১৭। মুসলমানকে আনন্দদায়ক সুসংবাদ দেয়া মুস্তাহাক।

১৮। আল্লাহ্‌র দয়ার ব্যাপকতার কথা শুনে আমল বিমুখ হয়ে পড়ার আশংকা।

১৯। জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি যে বিষয়ে না জানে সে বিষয়ে  الله و رسو له أعلم  (আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে বেশি জানেন।) বলা।

২০। ঢালাওভাবে সকলকে ইলম না শিখিয়ে বিশেষভাবে কতিপয় লোককে শেখানোর বৈধতা।

২১। গাধার পিঠে সফর সঙ্গী করার মাধ্যমে মহানবী (সা: )-এর বিনয় প্রকাশ।

২২। জন্তুর পিঠে সফরসঙ্গী করার বৈধতা।

২৩। মুয়ায বিন জাবালের মর্যাদা।

২৪। এই বিষয়টির উচ্চ মর্যাদা।

আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা শুনতে প্লে বাটনে ক্লিক করুনঃ

ডাউনলোড – Mp3

 

উৎসঃ কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা। পৃষ্ঠাঃ ৩ থেকে ৮।

অধ্যায়  ১ | অধ্যায় ২অধ্যায় ৩ অধ্যায় ৪অধ্যায় ৫অধ্যায় ৬অধ্যায় ৭অধ্যায় ৮ | অধ্যায় ৯ | অধ্যায় ১০ | অধ্যায় ১১ | অধ্যায় ১২ | অধ্যায় ১৩ | অধ্যায় ১৪ | অধ্যায় ১৫ | অধ্যায় ১৬ | অধ্যায় ১৭ | অধ্যায় ১৮ | অধ্যায় ১৯ | অধ্যায় ২০ | অধ্যায় ২১ | অধ্যায় ২২ | অধ্যায় ২৩ | অধ্যায় ২৪ | অধ্যায় ২৫ | অধ্যায় ২৬ | অধ্যায় ২৭ | অধ্যায় ২৮ | অধ্যায় ২৯ | অধ্যায় ৩০ | অধ্যায় ৩১ | অধ্যায় ৩২ | অধ্যায় ৩৪ | অধ্যায় ৩৫ | অধ্যায় ৩৬ | অধ্যায় ৩৭ | অধ্যায় ৩৮ | অধ্যায় ৩৯ | অধ্যায় ৪০ | অধ্যায় ৪১ | অধ্যায় ৪২ | অধ্যায় ৪৩ | অধ্যায় ৪৪ | অধ্যায় ৪৫ | অধ্যায় ৪৬ | অধ্যায় ৪৭ | অধ্যায় ৪৮ | অধ্যায় ৪৯ | অধ্যায় ৫০ | অধ্যায় ৫১ | অধ্যায় ৫২ | অধ্যায় ৫৩ | অধ্যায় ৫৪ | অধ্যায় ৫৫ | অধ্যায় ৫৬ | অধ্যায় ৫৭ | অধ্যায় ৫৮ | অধ্যায় ৫৯ | অধ্যায় ৬০ | অধ্যায় ৬১ | অধ্যায় ৬২ | অধ্যায় ৬৩ | অধ্যায় ৬৪ | অধ্যায় ৬৫ | অধ্যায় ৬৬ |

বই + mp3 – জ্ঞান পিয়াসুর আকাঙ্খা, কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যা – Exclusive

“বিসমিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ ওয়া আলা আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাইন আম্মাবাদ”

আপনি কি জান্নাত পেতে চান? জাহান্নাম থাকে নিজেকে রক্ষা করতে চান? আমরা সবাই তা চাই। কিন্তু আমরা কি জানি কিভাবে চির সুখের স্থান জান্নাত পেতে হবে এবং কিভাবে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে?

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেনঃ

الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ

যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শিরকের সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।“  [ সুরা আন’আম ৮২]

এবং মহানবী মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেন

আল্লাহ তা’আলা এমন বাক্তির উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন, যে বাক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি  লাভের উদ্দেশে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে।“ [সহিহ বুখারি-৬৪২৩, সহিহ মুসলিম – ৩৩,২৬৩]

তাওহীদ হল ইসলামের মূল ভিত্তি। জান্নাত লাভের চাবিকাঠি। এবং তাওহীদের বিপরীত হল শিরক। শিরক যাবতীয় আমল বরবাদকারি জাহান্নামে যাবার কারণ।মহান আল্লাহ বলেন:

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।“ [সুরা নিসা -৪৮ ]

إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ

“নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার জন্য জাহান্নামকে অবধারিত করে দেন ।“[সুরা মায়েদা – ৭২]

আর তাই আল্লাহর বিশুদ্ধ তাওহীদের দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত-তামিমি(রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর তাওহীদের উপর এই অমূল্য গ্রন্থটি রচনা করেন। এতে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) তাওহীদের অর্থ ও ফাযিলত, তাওহীদের বিপরীত শিরক এর প্রকারভেদে এর ভয়াবহতা সহ আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছেন যেমনঃ

  • তাওহীদের মর্যাদা এবং তাওহীদের ফলে যে পাপ মোচন হয়।

  • যে ব্যক্তি তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করবে সে বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে।

  • শিরক সম্পর্কীয় ভীতি।

  • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর প্রতি সাক্ষ্যদানের আহবান।

  • তাওহীদ এবং  লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর সাক্ষ্য বাণীর ব্যাখ্যা।

  • আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারোর উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক এবং কেন।

  • আল্লাহ ব্যতিত গাইরুল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক এবং কেন।

  • অক্ষমকে আহবান করা শিরক এবং কেন।

  • যাদু।

  • যাদু ও এর শ্রেণীভুক্ত বিষয়।

  • ভবিষ্যৎ বক্তা।

  • অশুভ আলামত সম্পর্কীয় বিবরণ সহ

মোট ৬৬টি বিষয়ের উপর আলোচনা করেছেন। বইটি ডাউনলোড করুন এই লিংক থেকেঃ

Download [8.25 MB]

Download from mediafire

Download from 4shared

কিছুদিন আগে শেইখ মতিউর রহমান মাদানি, এই কিতাবুত তাওহীদ বইটির উপর একটি কোর্স করিয়েছিলেন। আপনাদের তাওহীদ বুঝার সুবিধার্থে আমরা আপনাদের জন্য এই কোর্সের ৫৭ টি লেকচার প্রত্যেকটা বিষয়ের উপর আলাদা আলাদা ভাবে নিচে দিয়ে দিলাম। আপনার বইটি ডাউনলোড করে ওপেন করুন, এবং প্রত্যেকটি বিষয়ের পাসে একটা নাম্বার দিয়া আছে। ঐ নাম্বার অনুজায়ে আপনারা নিচে থেকে লেকচার ডাউনলোড করে শুনুন। আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে তাওহীদ বুঝার তাউফিক দান করুক। আমিন।

সব ফাইল একসাথে ডাউনলোড করুন।

Chapter 1-13.zip [204 MB] | Chapter 14-26.zip [228 MB]

Chapter 27-40.zip [229 Mb] | Chapter 41-66.zip [209 Mb]

আপনারা Orbit downloader সফটওয়্যারটি ব্যাবহার করে, খুব সহজেই বড় ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন।

বিষয় ভিত্তিক আলাদা আলাদা ভাবে নিচে থেকে ডাউনলোড করুনঃ

Download from QuranerAlo Server

Download from 4shared Server

Tawhid – Introduction.mp3

Chapter 1.mp3

Chapter 2 – Part 1.mp3

Chapter 2 – Part 2.mp3

Chapter 3 and 4.mp3

Chapter 5.mp3

Chapter 6.mp3

Chapter 7.mp3

Chapter 8.mp3

Chapter 9 & 10.mp3

Chapter 11.mp3

Chapter 12.mp3

Chapter 13.mp3

Chapter 14.mp3

Chapter 15.mp3

Chapter 16.mp3

Chapter 17.mp3

Chapter 18.mp3

Chapter 19.mp3

Chapter 20.mp3

Chapter 21.mp3

Chapter 22.mp3

Chapter 23 & 24.mp3

Chapter 25 & 26.mp3

Chapter 27.mp3

Chapter 28.mp3

Chapter 29.mp3

Chapter 30.mp3

Chapter 31.mp3

Chapter 32.mp3

Chapter 33.mp3

Chapter 34.mp3

Chapter 35.mp3

Chapter 36.mp3

Chapter 37.mp3

Chapter 38.mp3

Chapter 39.mp3

Chapter 40.mp3

Chapter 41.mp3

Chapter 42 & 43.mp3

Chapter 44 & 45.mp3

Chapter 46.mp3

Chapter 47.mp3

Chapter 48.mp3

Chapter 49 & 50.mp3

Chapter 51, 52, 53, 54 & 55.mp3

Chapter 56 & 57.mp3

Chapter 58.mp3

Chapter 59.mp3

Chapter 60.mp3

Chapter 61.mp3

Chapter 62.mp3

Chapter 63, 64 & 65.mp3

Chapter 66.mp3

Tawhid – Introduction.mp3

Chapter 1.mp3

Chapter 2 – Part 1.mp3

Chapter 2 – Part 2.mp3

Chatper 3 and 4.mp3

Chatper 5.mp3

Chatper 6.mp3

Chatper 7.mp3

Chapter 8.mp3

Chatper 9 & 10.mp3

Chatper 11.mp3

Chatper 12.mp3

Chatper 13.mp3

Chapter 14.mp3

Chapter 15.mp3

Chapter 16.mp3

Chapter 17.mp3

Chapter 18.mp3

Chapter 19.mp3

Chapter 20.mp3

Chapter 21.mp3

Chapter 22.mp3

Chapter 23 & 24.mp3

Chapter 25 & 26.mp3

Chapter 27.mp3

Chapter 28.mp3

Chapter 29.mp3

Chapter 30.mp3

Chapter 31.mp3

Chapter 32.mp3

Chapter 33.mp3

Chapter 34.mp3

Chapter 35.mp3

Chapter 36.mp3

Chapter 37.mp3

Chapter 38.mp3

Chapter 39.mp3

Chapter 40.mp3

Chapter 41.mp3

Chapter 42 & 43.mp3

Chapter 44 & 45.mp3

Chapter 46.mp3

Chapter 47.mp3

Chapter 48.mp3

Chapter 49 & 50.mp3

Chapter 51, 52, 53, 54 & 55.mp3

Chapter 56 & 57.mp3

Chapter 58.mp3

Chapter 59.mp3

Chapter 60.mp3

Chapter 61.mp3

Chapter 62.mp3

Chapter 63, 64 & 65.mp3

Chapter 66.mp3

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s