রমজান শেষ দশকের ফজীলত


রমজান শেষ দশকের ফজীলত
সংকলন: মুহাম্মাদ আব্দুর রব আফফান
রমজানের শেষ দশকের অগণিত অসংখ্য ফজীলত। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদীকে এর মধ্যে এমন অমূল রাত্রী দান করেছেন যার তুলনা নেই। উলামায়ে কেরাম এর অনেক ফজীলত বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কতিপয় বর্ণনা করা হল:
১। এ দশকের লাইলাতুল কদরে আল্লাহ তায়ালা লাওহে মাহফূজ হতে দুনিয়ার আকাশে একবারে পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ করেন। অতপর ২৩ বছরের নবুওয়্যতী জীবনে প্রয়োজন ও বিশেষ বিশেষ ঘটনা অনুসারে সেখান থেকে তা অবতীর্ণ হয়। (বি: দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর: ৪/৫২৯)যার দ্বারা রয়েছে জিন ও মানুষের ইহ-পরকালিন সৌভাগ্য।
২। এ দশকের লাইলাতুল কদরের আমল হাজার মাস (৮৩ বছর ৪ মাস) অপেক্ষা উত্তম। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
অর্থাৎ লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (সূরা কদর: ৩)
৩। এর অন্যতম গুণ ও বৈশিষ্ট হল যে, এটি বরকতময় রাত। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। (সূরা দুখান:৩)
৪। জিবরীল সহ এতে ফেরেস্তাদের অবতরণ: অর্থাৎ এ রাতে অধিক বরকতের কারণে অধিক ফেরেস্তা অবতরণ করে থাকেন। আর ফেরেস্তাগণ বরকত ও রহমত নাযিলের সাথে সাথে অবতরণ করে থাকেন, যেমন অবতরণ করে থাকেন কুরআন তেলায়েতের সময় ও আল্লাহর জিকিরের মজলিসে..। (বি: দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর, ৪/৫৩১)
৫। এ রাতের বৈশিষ্ট হল, শান্তিময় ও নিরাপদ: অর্থাৎ যেমন প্রখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ বলেন: শয়তান এতে খারাপ-মন্দ কিছু করতে বা এমন কিছু করতে অক্ষম যাতে ক্ষতি রয়েছে। (বি: দেখুন: ইবনে কাসীর:৪/৫৩১)
বান্দা যেহেতু  এ সময় আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে মাশগুল থাকে যার ফলে এতে আজাব-গজব ও শাস্তি হতে নিরাপত্তা বিরাজ করে থাকে।
৬। এ রাতে প্রত্যেক কর্ম-কান্ড ফায়সালা হয়:
যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন:فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
অর্থাৎ এতে ফায়সালা করা হয় প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ আমল।(সূরা দুখান:৪)
অর্থাৎ বছরে যা হবে যেমন রুজী বন্টন, জন্ম মৃত্যু, ভাল-মন্দ ইত্যাদি যা হবে অকাট্য, যার কোন আর রদ-বদল হবে না। (বি: দেখুন: ইবনে কাসীর ৪/১৩৭-১৩৮)
৭। যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশা নিয়ে এ রাত ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত হবে, তার বিগত জীবনের গুনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। যেমন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
من قام ليلة القدر إيماناً واحتساباً غفر له ما تقدم من ذنبه.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় লাইলাতুল কদর পালন করবে, তার বিগত জীবনের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী-মুসলিম)
৮। লাইলাতুল কদরকে কেন্দ্র করে আল্লাহ একটি স্বতন্ত্র সূরা অবতীর্ণ করেন যা কিয়ামতকাল পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। সূরাটির নাম: সূরাতুর কদর:
অর্থাৎ: আমি কুরআনকে ক্বাদ্রের রাতে নাযিল করেছি,  তুমি কি জান ক্বাদ্রের রাত কী?  ক্বাদ্রের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম,  এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর
শান্তি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।
৯। বছরের সর্বোত্তম রাত হল লাইলাতুল কদর।

এ দশকের আমল
যেহেতু এদশকে ফজীলত অফুরন্ত অপরসীম, এজন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নীতি অনুযায়ী নিম্নের আমলগুলি করলে উক্ত ফজীলত অর্জন করা সম্ভব:
এতেকাফ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজীবন এদশকে এতেকাফ করেছেন অতএব, কেউ যদি তা করে  তবে লাইলাতুল কদরের ফজীলত পেয়ে যাওয়া সম্ভব।
নিজে রাত জাগরণ করে ইবাদত করা ও পরিবারকেও ইবাদতের জন্য জাগান।
যেমন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শেষ দশক আগমন করত পূর্ণ রাত জাগরণ করতেন, (পরিবারকে জাগাতেন এবং পারিবারিক ও দুনয়াবী ব্যস্ততা মুক্ত হয়ে ইবাদতের জন্য) পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে প্রচেষ্টা করতেন। (বুখারী-মুসলিম)
আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুর কদরের ফজীলত লাভ করার তাওফীক দান করেন। আমীন

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s